একদিকে ট্যাংকারের সংকট। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতি। এ দুয়ের সম্মিলিত প্রভাবে সমুদ্রপথে এলএনজি পরিবহনের ব্যয় এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটমাসে সর্বোচ্চে। খবর রয়টার্স।
বৈশ্বিক পণ্যবাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা স্পার্ক কমোডিটিসের তথ্যানুযায়ী, আটলান্টিক অঞ্চলে ১ লাখ ৭৪ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজের (ফ্রেইট) দৈনিক ভাড়া ৫১ হাজার ৭৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত ৩ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। একই ধরনের জাহাজের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভাড়া ৩৬ হাজার ৭৫০ ডলার, যা গত ২৫ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান বলেন, ‘এলএনজি পরিবহনে খরচ বেড়েছে মূলত রুট পরিবর্তনের কারণে, বিশেষ করে এশিয়ার দিকে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি ফ্রেইট যেগুলো আগে ইউরোপে পাঠানো হতো, তা এখন বেশি করে এশিয়ার দিক হয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবহনের সময় বেড়েছে, ফ্রেইটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভাড়া বেড়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে। কারণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। উত্তেজনা বাড়ানোর কারণে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে, যা জাহাজ মালিকদের কাছে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এতে অনেক জাহাজ মালিক তাদের এলএনজি পণ্য ও জ্বালানিবাহী জাহাজ ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেছেন। এতে জাহাজের সংকট দেখা দিয়েছে।
কাসিম বলেন, ‘এলএনজি পরিবহন খরচ বাড়ার পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে মিসরের নতুন টেন্ডার, যার মাধ্যমে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৬০টি জাহাজ কেনা হবে। এতে বাজারে জাহাজের চাহিদা বেড়ে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’